Loading Now

মহিলা বিলের আড়ালে কি আসন বাড়ানোর ছক? মোদীর ভাষণ ও ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ ঘিরে নজিরবিহীন ঐক্যে সরব তৃণমূল-বাম-কংগ্রেস

কলকাতা, ১৯ এপ্রিল ২০২৬: মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল এবং সেই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণকে কেন্দ্র করে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্ষমা প্রার্থনা’কে কেন্দ্র করে যখন বিজেপি প্রচার তুঙ্গে তুলেছে, তখনই রাজ্যে একযোগে সুর চড়ালো তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম এবং কংগ্রেস। বিরোধীদের মূল অভিযোগ— মহিলাদের অধিকারের দোহাই দিয়ে আসলে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর বা ‘ডিলিমিটেশন’-এর গভীর চক্রান্ত করছে মোদী সরকার।

তৃণমূলের তোপ: “ক্ষমা চাওয়া আসলে ভান”

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনাকে স্রেফ একটি ‘রাজনৈতিক নাটক’ বা ‘ভান’ বলে অভিহিত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, মোদী সরকার আসলে ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে, আর মহিলাদের আবেগকে সেখানে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে কড়া ভাষায় জানানো হয়েছে:

  • মণিপুরে মহিলাদের ওপর হওয়া অমানবিক অত্যাচার বা বিজেপি শাসিত রাজ্যে নারী নিগ্রহের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর প্রকৃত অনুশোচনা নেই।
  • বিজেপি নেতাদের বিভিন্ন সময়ে করা নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য ক্ষমা না চেয়ে এই ভাষণ দেওয়াটা জনমোহিনী রাজনীতির অংশ।
  • দলের সরাসরি বার্তা, “মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে কোনো পয়সা লাগে না মোদীজি।”

“ডিভাইডার নম্বর ওয়ান”: সরব মহম্মদ সেলিম

সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে দেশের ঐক্যের পরিপন্থী বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ‘ডিভাইডার নম্বর ওয়ান’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই বিলটি আদতে একটি ‘ডিলিমিটেশন বিল’। সেলিমের যুক্তি:

  1. রাজ্যভিত্তিক বঞ্চনা: পশ্চিমবঙ্গ, কেরল বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলি যারা সফলভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে, ডিলিমিটেশনের ফলে তারা আসন সংখ্যায় পিছিয়ে পড়বে। উল্টোদিকে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলি যারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ, তারা বেশি আসন পেয়ে ‘পুরস্কৃত’ হবে।
  2. অতীতের নজির: বাম আমলেই পঞ্চায়েত ও পুরসভায় মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা হয়েছিল। গীতা মুখোপাধ্যায় কমিটির রিপোর্ট মেনে পুরনো বিলটি পাশ করলেই এই জটিলতা তৈরি হতো না।

কংগ্রেসের অবস্থান: “ভিত্তি গড়েছিলেন রাজীব গান্ধী”

হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু কলকাতায় বিধান ভবনে বসে মোদী সরকারের ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে সরব হন। তাঁর দাবি, ১৬ এপ্রিলের গেজেট নোটিফিকেশনটি বিভ্রান্তিকর। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে:

  • প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীই ৭৩ ও ৭৪তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পঞ্চায়েত ও স্থানীয় প্রশাসনে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ নিশ্চিত করেছিলেন।
  • বর্তমান সরকার কেবল রাজনৈতিক ফায়দা নিতে ডিলিমিটেশনকে মহিলা বিলের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ডিলিমিটেশন’

বিরোধীদের অভিন্ন আশঙ্কা হলো, ২০২৬ সালের এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেন্দ্র লোকসভার মানচিত্র বদলে দিতে চাইছে। মহিলা বিলের বাস্তবায়নকে এই সীমানা পুনর্নির্ধারণের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় বিরোধীরা মনে করছেন, ২০২৯ বা তার পরবর্তী সময়ের জন্য মহিলাদের অপেক্ষা করিয়ে রাখা আসলে একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে কেন্দ্র করে বাংলায় লোকসভা বা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে মেরুকরণ তৈরি হলো, তা আগামী দিনে রাজনীতির ময়দানকে আরও তপ্ত রাখবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Share this content:

শুভদীপ দাস বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকতার জগতের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। বিজ্ঞান শাখায় স্নাতকের পর সাংবাদিকতার নেশাতেই এই পেশায় আসা। পেশাগত সাংবাদিকতার পাশাপাশি শুভদীপ দাস একজন সখের আলোকচিত্রী এবং চিত্রশিল্পী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজ থেকে অন্ধ কুসংস্কার ও কুপ্রথা নির্মূল করে একটি বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সর্প সচেতনতা বিষয়ে তাঁর কাজ প্রশংসনীয়। সাপে কাটা রোগীদের সঠিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পেতে সহায়তা করা এবং সাপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে তিনি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

You May Have Missed