News Flash

অশোকনগরে ব্রাত্য ‘ঘরের ছেলে’ ধীমান! দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক প্রাক্তন বিধায়ক

শুভদীপ দাস
Elite Contributor
রাজনীতি
Share Story:

নিজস্ব প্রতিনিধি, অশোকনগর: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বঞ্চনা, ব্যক্তিগত অপমান আর অশোকনগরের বর্তমান রাজনৈতিক অবক্ষয় নিয়ে এবার জনসমক্ষে মুখ খুললেন প্রাক্তন বিধায়ক ধীমান রায়। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে আবেগঘন গলায় তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে অশোকনগরের সংস্কৃতিকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে এবং পুরনো কর্মীদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে।

টিকিট ছিনিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে ‘অজ্ঞাত কারণ’

ধীমান বাবুর রাজনৈতিক লড়াই ১৯৯৮ সালের তৃণমূল প্রতিষ্ঠার সময় থেকে। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে তিনি এলাকার বিধায়ক নির্বাচিত হন। সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালে প্রার্থী হিসেবে তাকে প্রতীক দেওয়া হলেও ১৪ দিন পর তা হঠাৎই কেড়ে নেওয়া হয়। একইভাবে ২০২৬ সালের নির্বাচনেও তাকে ব্রাত্য রাখা হয়েছে। তার প্রশ্ন, “দারিদ্রতা কি আমার অপরাধ? নাকি টাকা নেই বলে আমি ব্রাত্য?”

ব্যক্তিগত স্তরে অপমান ও ‘হুলিয়া’

বিধায়ক পদ হারানোর পর ধীমান রায়ের দাবি অনুযায়ী, তাকে একের পর এক অপমানের শিকার হতে হয়েছে।

  • তালা বন্ধ কার্যালয়: রাত ১২টার সময় চুরির মতো করে তার ব্যবহার করা কমিউনিটি হলে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
  • সামাজিক বয়কট: ধীমান বাবুর অভিযোগ, তার মাতৃবিয়োগের পর এবং বাড়ির কালীপুজোয় যাতে কোনো কাউন্সিলর বা নেতা না যান, তার জন্য দলীয় স্তরে ‘হুলিয়া’ জারি করা হয়েছিল।
  • নাম মুছে ফেলার চেষ্টা: বিধায়ক তহবিল থেকে তৈরি করা বিধান রায়ের মূর্তি ও স্টেডিয়ামের নাম থেকেও তার পরিচয় মুছে ফেলার চক্রান্ত চলছে বলে তিনি জানান।
  • সৌজন্যবোধের অভাব: ধীমান বাবু তাঁর পূর্বসূরিদের (কেশবচন্দ্র ভট্টাচার্য, ননী কর বা সাধন সেন) উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ছিল। কিন্তু বর্তমান নেতৃত্ব সেই ‘অশোকনগরের কৃষ্টি’ নষ্ট করে দিয়েছেন।

ভরাডুবির দায় ও অন্তর্ঘাত

অশোকনগরে ২৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে একটিতেও তৃণমূল জিততে না পারার ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “যাদের মানুষ চেনে না, যাদের পরিবার বিজেপি করে, তাদের টিকিট দেওয়ার ফল আজ আমও গেল, ছালাও গেল।” তিনি আরও দাবি করেন, যারা এতদিন বিধায়কের পাশে থেকে মিছিল করেছে, আজ তারাই রাতারাতি বিজেপির পতাকা হাতে তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ও পার্টি অফিস ভাঙচুর করছে।

“দারিদ্রতা আমার অহংকার”

সাক্ষাৎকারের শেষে ধীমান রায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি দলবিরোধী কোনো কাজ করেননি এবং এখনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিজের নেত্রী মানেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তিনি বলেন, “মানুষের ব্যবহারের থেকে বড় সম্পদ আর কিছু নেই। অশোকনগরের মানুষই ঠিক করবেন আমার আগামী দিনের গতিপথ কী হবে।”

রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য

ধীমান রায়ের এই ‘হৃদয়ের ক্ষোভ’ প্রকাশের পর উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। প্রাক্তন বিধায়কের এই মন্তব্যের পর স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ধীমান রায়ের এই সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি বর্তমান নেতৃত্বের কথা বলতে গিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম মুখে আনেননি। তবে তাঁর করা অভিযোগ এবং পরিস্থিতির বর্ণনা থেকে স্পষ্ট যে, তাঁর আক্রমণের লক্ষ্য ছিল তাঁরই উত্তরসূরি, বর্তমানে অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রের তারই মত প্রাক্তন বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী।

The Elite Weekly

Get curated premium content delivered straight to your inbox.

এই লেখাটি লিখেছেন…

শুভদীপ দাস

শুভদীপ দাস বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকতার জগতের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। বিজ্ঞান শাখায় স্নাতকের পর সাংবাদিকতার নেশাতেই এই পেশায় আসা। পেশাগত সাংবাদিকতার পাশাপাশি শুভদীপ দাস একজন সখের আলোকচিত্রী এবং চিত্রশিল্পী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজ থেকে অন্ধ কুসংস্কার ও কুপ্রথা নির্মূল করে একটি বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সর্প সচেতনতা বিষয়ে তাঁর কাজ প্রশংসনীয়। সাপে কাটা রোগীদের সঠিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পেতে সহায়তা করা এবং সাপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে তিনি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।