Loading Now

স্ট্রং রুমে কারচুপির আশঙ্কা: কর্মীদের ‘রাত জেগে’ ভোট পাহারার নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট গণনা শুরু হতে আর কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। ঠিক তার আগেই রাজ্যের স্ট্রং রুমগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং এবং সিসিটিভি বিকল করে গণনায় কারচুপির নীল নকশা তৈরি হয়েছে। এই ‘গণতন্ত্র বিরোধী’ চক্রান্ত রুখতে দলের কর্মীদের সজাগ থাকতে এবং রাত জেগে ভোট পাহারার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


যেখানে যেখানে কারচুপির আশঙ্কা


​মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কিছু নির্দিষ্ট এলাকার নাম উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে, সেখানে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর তালিকায় রয়েছে:



  • হুগলির শ্রীরামপুর ও নদীয়ার কৃষ্ণনগর: দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের অভিযোগ।

  • পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম: নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ।

  • কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র: সিসিটিভি ক্যামেরা রহস্যজনকভাবে বন্ধ রাখার দাবি।


​নেত্রীর সরাসরি অভিযোগ, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে স্ট্রং রুম চত্বরে সন্দেহজনকভাবে গাড়ি যাতায়াত করছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “এই সমস্তটাই বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে করা হচ্ছে।”


তৃণমূল কর্মীদের জন্য ‘ফোর-পয়েন্ট’ ফর্মুলা


​দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে নেত্রী নিজেই রাত জেগে নজরদারি চালাচ্ছেন। সহকর্মীদের প্রতি তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ:



  1. সতর্ক থাকা: কোনো প্রকার শিথিলতা দেখানো যাবে না।

  2. রাত জাগা: স্ট্রং রুমের সামনেই রাত কাটিয়ে জনগণের রায় পাহারা দিতে হবে।

  3. প্রতিরোধ: সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই ঘিরে ধরতে হবে এবং জবাবদিহি চাইতে হবে।

  4. আইনি পদক্ষেপ: তৎক্ষণাৎ কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করতে হবে এবং অভিযোগ দায়ের করতে হবে।


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট


​গণনার ঠিক আগে মমতার এই ‘রাত জাগার ডাক’ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তৃণমূল শিবিরের দাবি, জনগণের দেওয়া পবিত্র রায় ছিনতাই রুখতেই এই চরম সতর্কতা। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও পরাজয়ের আগাম অজুহাত বলে দাবি করলেও, গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় ঘাসফুল শিবির যে মরিয়া, তা মমতার বার্তাতেই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।


Share this content:

শুভদীপ দাস বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকতার জগতের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। বিজ্ঞান শাখায় স্নাতকের পর সাংবাদিকতার নেশাতেই এই পেশায় আসা। পেশাগত সাংবাদিকতার পাশাপাশি শুভদীপ দাস একজন সখের আলোকচিত্রী এবং চিত্রশিল্পী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজ থেকে অন্ধ কুসংস্কার ও কুপ্রথা নির্মূল করে একটি বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সর্প সচেতনতা বিষয়ে তাঁর কাজ প্রশংসনীয়। সাপে কাটা রোগীদের সঠিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পেতে সহায়তা করা এবং সাপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে তিনি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

You May Have Missed