উত্তর দিনাজপুরে সিপিএম কর্মীর রহস্যমৃত্যু: তৃণমূলের বিরুদ্ধে পিটিয়ে মারার অভিযোগ, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা
নিজস্ব প্রতিনিধি, ইসলামপুর: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর। ভোটের প্রচার সেরে বাড়ি ফেরার পথে নুর আজম (২২) নামে এক যুবকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ইসলামপুর থানার গুঞ্জরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নেহালপুর এলাকায়। মৃত যুবককে নিজেদের সক্রিয় কর্মী দাবি করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। যদিও শাসক শিবির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল থেকেই নিখোঁজ ছিলেন নুর। পরিবারের দাবি, তিনি সিপিএম-এর হয়ে প্রচার সারছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় অত্যন্ত অসুস্থ এবং বিচলিত অবস্থায় তিনি বাড়ি ফেরেন। বাড়িতে ঢুকেই তিনি অসংলগ্ন আচরণ শুরু করেন এবং জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। তাঁর এই অস্বাভাবিক অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
নুরের পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, তিনি বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং এলাকায় লাল পতাকা হাতে প্রচার করতেন। এই কারণেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে পিটিয়ে মেরেছে। ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছান স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব ও প্রার্থী সামি খান। তাঁদের অভিযোগ, প্রথম দফার ভোটের আগে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই এই খুন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই এবং পুলিশি তদন্তেই সত্য প্রকাশ পাবে।
পুলিশি পদক্ষেপ:
ইসলামপুর জেলা পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুবকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না বা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহল চলছে।
আগামী ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গের এই জেলায় ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগে এই ঘটনায় ইসলামপুরে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন।