Loading Now

বীরভূমে ফ্লপ শো, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কালীগঞ্জে ধস: অস্তিত্ব সংকটে হুমায়ুনের দল!

একদিকে বীরভূমের জনসভায় চরম ব্যর্থতা, অন্যদিকে নদীয়ার কালীগঞ্জে সংগঠনে বড়সড় ভাঙন—চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে কার্যত দিশেহারা দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)। বীরভূমের জনসভায় লোক না হওয়ায় যখন হুমায়ুনকে পিছু হটতে হয়েছে, ঠিক তখনই কালীগঞ্জের শীর্ষ ব্লক নেতৃত্ব তাঁর হাত ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন।

জনসভার রেশ কাটতে না কাটতেই দলবদল

আশ্চর্যের বিষয় হলো, গতকাল অর্থাৎ সোমবারও কালীগঞ্জ ব্লকে হুমায়ুন কবীর ( Humayun Kabir ) যখন হুঙ্কার দিচ্ছিলেন, তখন এই দলত্যাগী চার নেতা তাঁর পাশেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সভা সফল করতে তাঁরা কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেও মঙ্গলবার সকালেই ছবিটা আমূল বদলে যায়। তৃণমূল সূত্রের খবর, সোমবার রাতেই জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের একপ্রস্থ গোপন বৈঠক হয়েছিল। এরপর আজ সকালে তাঁরা সটান কৃষ্ণনগরে মহুয়া মৈত্রের নির্বাচনী কার্যালয়ে পৌঁছে যান এবং তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন।

বীরভূমে ‘খাঁ খাঁ’ মাঠ, হতাশ হুমায়ুন

মঙ্গলবার বীরভূমের মাড়গ্রাম হাই মাদ্রাসা মাঠে হুমায়ুনের বিশাল জনসভা করার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। বিশাল মঞ্চ বাঁধা থাকলেও গোটা মাঠ ছিল কার্যত জনশূন্য। লোক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সভাস্থলেই যাননি হুমায়ুন। এই ব্যর্থতার দায়ে তৃণমূল ও প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন:

  • প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে সমর্থকদের বাস আটকে দেওয়া হয়েছে।
  • হেলিকপ্টার নামার অনুমতি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে।
  • এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

মহুয়া মৈত্রের প্রতিক্রিয়া

কালীগঞ্জের AJUP নেতাদের দলে স্বাগত জানিয়ে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্র বলেন:

“মানুষ বুঝতে পারছেন যে উন্নয়নের স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করা প্রয়োজন। বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলই একমাত্র বিকল্প। যারা ভুল বুঝে অন্য দলে গিয়েছিলেন, তাঁরা আজ ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছেন।”

অস্তিত্ব সংকটে AJUP?

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিতর্কিত মন্তব্য আর ভাইরাল ভিডিওর দাপট থাকলেও সাংগঠনিক ভিত যে কতটা নড়বড়ে, তা বীরভূমের শূন্য মাঠ আর কালীগঞ্জের দলবদল প্রমাণ করে দিল। কপ্টারে চড়ে প্রচারের জৌলুস থাকলেও ভোটের মুখে এই বড়সড় ভাঙন হুমায়ুন কবীরের দলের ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ৪ তারিখের পর সরকার ফেলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও, বর্তমানে নিজের ঘর সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন এই দাপুটে নেতা।

Share this content:

শুভদীপ দাস বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকতার জগতের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। বিজ্ঞান শাখায় স্নাতকের পর সাংবাদিকতার নেশাতেই এই পেশায় আসা। পেশাগত সাংবাদিকতার পাশাপাশি শুভদীপ দাস একজন সখের আলোকচিত্রী এবং চিত্রশিল্পী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজ থেকে অন্ধ কুসংস্কার ও কুপ্রথা নির্মূল করে একটি বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সর্প সচেতনতা বিষয়ে তাঁর কাজ প্রশংসনীয়। সাপে কাটা রোগীদের সঠিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পেতে সহায়তা করা এবং সাপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে তিনি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

You May Have Missed