Loading Now

বাংলার হারানো গৌরব ফেরাতে ‘পরিবর্তনের’ ডাক রাজ্যপালের, পাল্টা ‘লাটসাহেব’ তোপ মমতার

নববর্ষের পুণ্যলগ্নেই রাজভবন ও নবান্নের সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তরুণ প্রজন্মকে ‘পরিবর্তনের’ অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। আর তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেই চড়েছে রাজনীতির পারদ। নাম না করে রাজ্যপালকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজভবন থেকে পরিবর্তনের ডাক

বুধবার পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রাজভবনে (লোক ভবন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। সেখানে রাজ্যের অতীত ও বর্তমানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ এককালে শিল্প, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে দেশের শীর্ষে থাকলেও আজ সেই গরিমা ম্লান।
রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্যে বলেন:

  • আর্থিক পতন: স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশের জিডিপিতে বাংলার অবদান ১০ শতাংশের বেশি থাকলেও বর্তমানে তা ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
  • পিছিয়ে পড়া রাজ্য: এককালে মাথাপিছু আয়ে ওপরের সারিতে থাকা বাংলার চেয়ে আজ ১৫টি রাজ্য এগিয়ে রয়েছে।
  • শিক্ষায় ঘাটতি: স্কুল-কলেজে নাম নথিভুক্ত করার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় কম।
    তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “এই গৌরব আকাশ থেকে পড়বে না, আমাদেরই পুনরুদ্ধার করতে হবে। পরিবর্তনের অংশ হওয়ার অঙ্গীকার করুন।”

‘লাটসাহেবকে’ পাল্টা তোপ মমতার

রাজ্যপালের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের জনসভা থেকে তিনি সরাসরি তোপ দাগেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলার লাটসাহেব, যিনি সবচেয়ে বড় বাড়িতে থাকেন, তিনি আজ বিবৃতি দিয়েছেন। আজ নববর্ষ, অথচ বাংলার মানুষকে অভিনন্দন না জানিয়ে আমায় গালি দিচ্ছেন।”
রাজ্যে অশান্তির অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা দাবি, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের অধীনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সংস্থা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা এখন রাজ্যের হাতে নেই। এর দায় কেন্দ্রের ওপরই চাপিয়েছেন তিনি।

সংঘাতের নতুন মোড়

গত মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রাজ্যপাল আরএন রবির সঙ্গে রাজ্য সরকারের সম্পর্ক আপাত শান্ত ছিল। সৌজন্য বিনিময় করতে নবান্ন থেকে রাজভবনেও গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রাজ্যপালের এই কড়া অর্থনৈতিক সমালোচনা ও ‘পরিবর্তনের’ ডাক রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নববর্ষের সকালে শুরু হওয়া এই বাগযুদ্ধ আগামী দিনে রাজভবন-নবান্ন সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Share this content:

শুভদীপ দাস বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকতার জগতের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। বিজ্ঞান শাখায় স্নাতকের পর সাংবাদিকতার নেশাতেই এই পেশায় আসা। পেশাগত সাংবাদিকতার পাশাপাশি শুভদীপ দাস একজন সখের আলোকচিত্রী এবং চিত্রশিল্পী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজ থেকে অন্ধ কুসংস্কার ও কুপ্রথা নির্মূল করে একটি বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সর্প সচেতনতা বিষয়ে তাঁর কাজ প্রশংসনীয়। সাপে কাটা রোগীদের সঠিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পেতে সহায়তা করা এবং সাপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে তিনি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

You May Have Missed