News Flash

মাত্র ১৮ দিনে চিনির দামে রেকর্ড আগুন, কারণ কী? মাথায় হাত মধ্যবিত্তের

শুভদীপ দাস
Elite Contributor
দেশবিশেষ প্রতিবেদন
Share Story:

দ্য নিউজ এক্সপ্রেস ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্ক: উৎসবের মরশুমের মুখে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে বড়সড় ধাক্কা। মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে চিনির দাম রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে খুচরো দোকান—সর্বত্রই লাফিয়ে বাড়ছে মিষ্টির এই প্রধান উপকরণের দর। পাইকারি বাজারেই প্রতি কেজি চিনির দাম পৌঁছেছে প্রায় ৫৮ থেকে ৬১ টাকায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরো বাজারে।

হঠাৎ কেন এমন আগুন চিনির বাজারে?

বাজার বিশেষজ্ঞ ও খাদ্য সরবরাহ সূত্রের মতে, এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ ইথানল উৎপাদন। পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে প্রচুর পরিমাণ আখ ও আখের রস সরাসরি ইথানল তৈরির প্রকল্পে পাঠানো হচ্ছে। ফলে চিনি উৎপাদনের জন্য আখের জোগানে বড়সড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

উৎপাদন ঘাটতি ও প্রতিকূল আবহাওয়া

চলতি মরশুমে দেশের প্রধান চিনি উৎপাদনকারী রাজ্যগুলিতে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ফসলের রোগের কারণে আখের সার্বিক ফলন কমেছে। ফলে চিনিকলগুলিতে উৎপাদনের গতি ব্যাহত হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মোট উৎপাদন অনেকটাই কম হয়েছে।

মজুত নীতি ও উৎসবের বাড়তি চাহিদা

স্টক লিমিট সংক্রান্ত সরকারি কড়াকড়ির কারণে ডিলাররা পর্যাপ্ত চিনি খোলা বাজারে ছাড়ছেন না, যার ফলে কৃত্রিম জোগান ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, উৎসবের মরশুম ঘনিয়ে আসায় মিষ্টি প্রস্তুতকারী সংস্থা ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে চিনির চাহিদা বেড়েছে বিপুল হারে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় দর হু হু করে বাড়ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের নজর

খুচরো ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ ক্রেতার ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়বে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কেন্দ্রীয় সরকার চিনিকলগুলির মজুত খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনে বিশেষ আমদানি নীতি কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

The Elite Weekly

Get curated premium content delivered straight to your inbox.

এই লেখাটি লিখেছেন…

শুভদীপ দাস

শুভদীপ দাস বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকতার জগতের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। বিজ্ঞান শাখায় স্নাতকের পর সাংবাদিকতার নেশাতেই এই পেশায় আসা। পেশাগত সাংবাদিকতার পাশাপাশি শুভদীপ দাস একজন সখের আলোকচিত্রী এবং চিত্রশিল্পী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজ থেকে অন্ধ কুসংস্কার ও কুপ্রথা নির্মূল করে একটি বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সর্প সচেতনতা বিষয়ে তাঁর কাজ প্রশংসনীয়। সাপে কাটা রোগীদের সঠিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পেতে সহায়তা করা এবং সাপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে তিনি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।