News Flash

মহাষ্টমীর রাতে অভিনব উদ্যোগ অশোকনগর মণ্ডল ৩ বিজেপির, ১০০ মহিলাকে বরণ করে হাতে তুলে দেওয়া হল ত্রিশূল ও শৃঙ্গারের সামগ্রী

শুভদীপ দাস
Elite Contributor
রাজনীতিরাজ্য
Share Story:

অশোকনগর: দুর্গাপুজোর মহাষ্টমীর রাতে পথে চলতি মহিলাদের বরণ করে তাঁদের হাতে ত্রিশূল ও শৃঙ্গারের সামগ্রী তুলে দিয়ে অভিনব উদ্যোগের নজির গড়ল অশোকনগর মণ্ডল ৩ বিজেপি। চৌরঙ্গী থেকে গোলবাজারের রাস্তায় বিজেপির বুক স্টলের সামনেই আয়োজিত হয় এই বিশেষ কর্মসূচি। প্রায় ১০০ জন মহিলাকে শাড়ি, আলতা, সিঁদুর ও ত্রিশূল তুলে দিয়ে সম্মান জানানো হয়। দুর্গোৎসবের আবহে আচমকা এমন অভ্যর্থনা পেয়ে খুশিতে আপ্লুত হয়ে পড়েন বহু মহিলা। আয়োজকদের দাবি, ঘরের মায়েদের মধ্যেই দেবী দুর্গার রূপ দেখতে পাওয়া এবং নারীশক্তির প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ।

মহাষ্টমীর সন্ধ্যা থেকে রাত—চারদিকে যখন পুজোর আনন্দ, মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়, তখনই চৌরঙ্গী থেকে গোলবাজারের রাস্তায় বিজেপির বুক স্টলের সামনে দেখা যায় এই বিশেষ আয়োজন। পথে চলতে থাকা মহিলাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শাড়ি, আলতা, সিঁদুরের মতো শৃঙ্গারের সামগ্রী এবং ত্রিশূল। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ জন মহিলাকে এই কর্মসূচির মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়। আচমকা এমন অভ্যর্থনা পেয়ে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যে এই উদ্যোগ তাঁদের কাছে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

‘ঘরের মায়ের মধ্যেই দেবী দুর্গাকে দেখি’, বললেন উদ্যোক্তা বাপি মিস্ত্রী

এই কর্মসূচির উদ্যোক্তা তথা অশোকনগর মণ্ডল ৩ বিজেপির সভাপতি বাপি মিস্ত্রী জানান, নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর কথায়, “মায়েদের সম্মান সর্বোপরি, কারণ আমরা মানুষের মধ্যে ভগবান দেখি। ঘরের মা আর দেবী মায়ের মধ্যে কোনও পার্থক্য দেখি না আমরা। ঘরের মাকেই দেবী দুর্গা মা রূপে বরণ করলাম। অশুভ শক্তির বিনাশ যেন হয়, সেই ভাবনা থেকেই ত্রিশূল তুলে দেওয়া হল।”

বাপি মিস্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে মাতৃশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ভাবনা। দুর্গাপুজোয় মণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনা করা হলেও প্রতিটি ঘরের মায়ের মধ্যেও দেবীর রূপ রয়েছে—এই বার্তাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন তাঁরা। সেই ভাবনা থেকেই মহাষ্টমীর রাতে পথচলতি মহিলাদের বরণ করে তাঁদের হাতে শৃঙ্গারের সামগ্রী ও ত্রিশূল তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলে জানান উদ্যোক্তা।

নারীশক্তির সম্মান ও সামাজিক সচেতনতার বার্তা বিজেপির জেলা সভাপতির

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি দীপঙ্কর চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এবং সমাজে নারীদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

দীপঙ্কর চক্রবর্তীর কথায়, “মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার একটি প্রয়াস, নারীর সম্মান যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। সাধারণ মানুষ যাতে জাগ্রত হয়, সেই কারণেই এই আয়োজন। আমরা নারীশক্তিকে দেবীশক্তি রূপে পুজো করি। নারীদের সম্মান ভারতীয় জনতা পার্টি সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।”

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা, নারীর মর্যাদা এবং সামাজিক সচেতনতার বার্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্বও এই কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছে আয়োজকরা।

মহাষ্টমীর রাতে অন্যরকম উদ্যোগ ঘিরে উৎসবের আবহ

অশোকনগর মণ্ডল ৩ বিজেপির সভাপতি বাপি মিস্ত্রীর নেতৃত্বে সমগ্র কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি দীপঙ্কর চক্রবর্তী, জেলা নেতৃত্বের সদস্যা শ্রীমতী ভাস্বতী সোম-সহ এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও দলীয় নেতৃত্ব।

চৌরঙ্গী থেকে গোলবাজারের রাস্তায় বিজেপির বুক স্টলের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দুর্গাপুজোর ধর্মীয় আবহের সঙ্গে যুক্ত হয় নারীশক্তির প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা। পথে চলতে চলতে এমন অভ্যর্থনা, হাতে শাড়ি, আলতা, সিঁদুর ও ত্রিশূল পাওয়া—সব মিলিয়ে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দ ও উৎসাহ।

মহাষ্টমীর রাতে দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি ঘরের মায়েদের সম্মান জানিয়ে অশোকনগর মণ্ডল ৩ বিজেপির এই উদ্যোগ এলাকায় বিশেষভাবে নজর কাড়ে। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, নারীশক্তিকে দেবীশক্তি হিসেবে সম্মান জানানো এবং অশুভ শক্তির বিনাশের কামনাই ছিল এই কর্মসূচির মূল ভাবনা।

দুর্গোৎসবের আবহে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন মাতৃশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হল, অন্যদিকে তেমনই নারীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার বার্তাও তুলে ধরল অশোকনগর মণ্ডল ৩ বিজেপি।

The Elite Weekly

Get curated premium content delivered straight to your inbox.

এই লেখাটি লিখেছেন…

শুভদীপ দাস

শুভদীপ দাস বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকতার জগতের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। বিজ্ঞান শাখায় স্নাতকের পর সাংবাদিকতার নেশাতেই এই পেশায় আসা। পেশাগত সাংবাদিকতার পাশাপাশি শুভদীপ দাস একজন সখের আলোকচিত্রী এবং চিত্রশিল্পী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজ থেকে অন্ধ কুসংস্কার ও কুপ্রথা নির্মূল করে একটি বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সর্প সচেতনতা বিষয়ে তাঁর কাজ প্রশংসনীয়। সাপে কাটা রোগীদের সঠিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পেতে সহায়তা করা এবং সাপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে তিনি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।