HABRA | অমিত শাহের হুঙ্কার হাবড়ার সভা থেকে
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাবড়া: বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ তুঙ্গে। এই আবহে আজ উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার বাণীপুর বি.আর আম্বেদকর মাঠে হাবড়া ও অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে এক মেগা জনসভা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হাবড়ার প্রার্থী দেবদাস মন্ডল ও অশোকনগরের প্রার্থী ডাঃ সুময় হীরার সমর্থনে এদিন সভা করেন শাহ। ঐতিসিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে নারী সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান— শাহের বক্তৃতায় উঠে এল একাধিক ইস্যু।
বক্তৃতার শুরুতেই অমিত শাহ হাবড়ার পবিত্র মাটিকে প্রণাম জানিয়ে স্থানীয় মানুষের আবেগ স্পর্শ করেন। এলাকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে তিনি স্মরণ করেন স্থানীয় জাগ্রত দেবালয়গুলিকে। তিনি একে একে নাম করেন – অশোকনগর শেরপুর কালীবাড়ি মন্দির, হরিপুর কালী মন্দির, হাবড়া জিরাটেশ্বরী মন্দির, হাবড়া বাজার দুর্গা মন্দির।এই সমস্ত দেবালয়কে প্রণাম জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শুরু করেন, যা উপস্থিত জনতাকে বিশেষভাবে উদ্বেলিত করে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আবেগ
বক্তৃতার শুরুতেই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন:
“১৯৩০ সালের আজকের দিনেই বিপ্লবী সূর্য সেন ব্রিটিশদের গুলিতে বিদ্ধ হয়েছিলেন। আবার আজকের দিনেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আইসিএস-এর চাকরি ছেড়ে ব্রিটিশদের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমন এক পবিত্র দিনেই আমি হাবড়ায় এসেছি।”
সন্ত্রাস ও গুন্ডারাজ দমনের হুঁশিয়ারি
এদিন সরাসরি শাসকদলকে নিশানা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কলকাতার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন যে, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। হাবড়াবাসীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা:
- ভয় পাবেন না: ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের ভয় দেখানোর দিন শেষ।
- কড়া হুঁশিয়ারি: তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্য করে শাহ বলেন, “আমি হাবড়ায় দিদির গুন্ডাদের বলে যাচ্ছি, ২৯ তারিখ ঘরের বাইরে বেরোবেন না। না হলে ৫ তারিখ উল্টো করে শায়েস্তা করব।”
- সন্ত্রাসবাদ নির্মূল: তিনি অঙ্গীকার করেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল করা হবে।

উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্লু-প্রিন্ট
রাজ্যের বেকারত্ব দূর করতে বড়সড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শাহ। তাঁর উল্লেখযোগ্য ঘোষণাগুলি হলো:
- চার শিল্পশহর: রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে চারটি বড় শিল্পশহর গড়ে তোলা হবে।
- লক্ষ্মীলাভ ও চাকরি: বছরে ১ লক্ষ সরকারি চাকরি এবং মহিলাদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
- হাবড়ায় মেট্রো: হাবড়া শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মেট্রো পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অপ্রাপ্তির কাঁটা
তবে শাহের বক্তৃতায় বেশ কিছু স্থানীয় ইস্যু এড়িয়ে যাওয়ায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অশোকনগরের বহুল আলোচিত ওএনজিসি (ONGC) প্রকল্প নিয়ে কোনো নতুন দিশা মেলেনি তাঁর বক্তব্যে। এমনকি ব্যস্ততম যশোহর রোড তথা জাতীয় সড়কের উন্নয়ন নিয়েও কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা করেননি তিনি।
এদিনের সভা থেকে শাহ কার্যত পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা— এই দুই অস্ত্রেই বাংলা দখলের লড়াই লড়তে চায় গেরুয়া শিবির। এখন দেখার, ৫ তারিখের ‘শায়েস্তা’ করার এই হুঙ্কার বা মেট্রোর প্রতিশ্রুতি ইভিএমে কতটা প্রভাব ফেলে।

Share this content:


