নারী সংরক্ষণ বিল: ‘অধিকারের ভ্রূণ হত্যা করেছে বিরোধীরা’, আধ ঘণ্টার ভাষণে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মোদী
শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রায় আধ ঘণ্টার এক দীর্ঘ ও আক্রমণাত্মক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নারী সংরক্ষণ বিল ইস্যুতে বিরোধীদের তুলোধোনা করেন। সংসদের নিম্নকক্ষে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে বিলটি পাশ না হওয়ায় তিনি সরাসরি কংগ্রেসসহ একাধিক আঞ্চলিক দলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আনা ১৩১তম সাংবিধানিক সংশোধনী বিলটি লোকসভার পাটিগণিতে থমকে যায়:
- সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের ভিত্তিতে সরকারের দরকার ছিল ৩৫২টি ভোট।
- মোট ৫২৮টি ভোটের মধ্যে বিলের পক্ষে পড়ে মাত্র ২৯৮টি ভোট।
- মাত্র ৫৪টি ভোটের অভাবে এই ঐতিহাসিক বিলটি খারিজ হয়ে যায়।
‘অধিকারের ভ্রূণ হত্যা’ ও কড়া আক্রমণ
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বিরোধীদের বিরোধিতাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
“আজ বিরোধী দলগুলি মহিলাদের অধিকারের ভ্রূণকে এক প্রকার হত্যা করল। এটি কেবল একটি বিলের পরাজয় নয়, বরং দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার ভবিষ্যৎকে গলা টিপে ধরা।”
‘পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ হারিয়েছে কংগ্রেস’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন, “এই বিলটি ছিল কংগ্রেসের দশকের পর দশক ধরে করা ভুল সংশোধনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। আমার বিশ্বাস ছিল তারা নিজেদের অতীতের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবে এবং মহিলাদের পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু তারা সেই সুযোগ হারিয়ে ইতিহাস গড়ার সুযোগও হাতছাড়া করেছে।”
বিরোধীদের ‘উচ্ছ্বাস’ ও প্রধানমন্ত্রীর হতাশা
ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল বিরোধীদের আচরণের সমালোচনা। মোদী বলেন:
- কংগ্রেস, তৃণমূল (TMC), ডিএমকে (DMK) এবং সমাজবাদী পার্টি (SP)-র মতো দলগুলি বিলটি যখন খারিজ হলো, তখন সংসদে হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছিল।
- প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “মহিলাদের স্বপ্ন ভেঙে যেতে দেখে এই পরিবারবাদী দলগুলোর আনন্দ এবং ডেস্ক চাপড়ানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
পরজীবী রাজনীতি ও আঞ্চলিক দলের ভবিষ্যৎ
কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এখন আঞ্চলিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করে টিকে আছে। কিন্তু আদতে তারা চায় না আঞ্চলিক দলগুলো শক্তিশালী হোক। বিলের বিরোধিতা করে তারা রাজনৈতিক চক্রান্তের মাধ্যমে আঞ্চলিক দলগুলোর ভবিষ্যৎকেও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ভাষণের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের মহিলাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিক দেখছেন কীভাবে মহিলাদের অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করা হলো। আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত হতাশ। বিরোধীদের সংকীর্ণ রাজনীতির খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের মা-বোনেদের।” প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, মহিলাদের এই পরাজয় এবং বিরোধীদের ‘পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি’র কথা দেশ মনে রাখবে। বিলটি আটকে যাওয়ায় যে স্থবিরতা তৈরি হলো, তার দায় সম্পূর্ণভাবে কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীদের ওপর চাপিয়েছেন তিনি।”
Share this content:
