বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বাংলার রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। কোন দল কত আসন দখল করবে, তা নিয়ে যখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, ঠিক তখনই দলের রণকৌশল স্থির করতে ময়দানে নামলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ( Abhishek Banerjee )। দলীয় কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক মেগা ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২৩০টি আসনে জয়লাভ করবে।
মাঠ ছাড়া যাবে না: কর্মীদের প্রতি কড়া নির্দেশ
প্রথম দফার ভোটের আগে প্রায় ৩০ হাজার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক। সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীদের প্রতি তাঁর স্পষ্ট বার্তা— অতি-আত্মবিশ্বাসে ভুগে এখনই ঢিলে দেওয়া চলবে না। তাঁর মতে:
- জনসংযোগই শেষ কথা: প্রতিটি কর্মীকে মানুষের দুয়ারে পৌঁছাতে হবে।
- উন্নয়ন প্রচার: রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল যারা পাচ্ছেন, তাঁদের উদাহরণ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।
- বিনম্র আচরণ: মানুষের কোনো অভিযোগ থাকলে তা মন দিয়ে শুনতে হবে। তর্কে না জড়িয়ে প্রয়োজনে ক্ষমা চেয়ে মানুষের মন জয়ের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বিজেপি-কে আক্রমণ ও রণকৌশল
কেন্দ্রীয় শাসকদলকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, বিজেপি সব বিষয়েই দিল্লির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে, যা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সংক্রান্ত বিতর্কেও পালটা জবাব দিয়েছেন তিনি। বিজেপি ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার দাবি তুললেও, অভিষেকের দাবি— প্রায় ৫০ লক্ষ নতুন মানুষ তৃণমূলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন। যদি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে, তবে জয়ের ব্যবধান কল্পনাতীত হবে।” — অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিশা
অভিষেক মনে করেন, এই লড়াই শুধু বাংলার মসনদ রক্ষার নয়, বরং দিল্লির রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার লড়াই। বাংলা থেকে বিজেপিকে প্রত্যাখান করলে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে এবং জাতীয় রাজনীতিতে বাংলার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
সব মিলিয়ে, ২৩ এপ্রিলের প্রথম দফার ভোটের আগে ২৩০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে মরিয়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।