হিন্দু পুরাণ অনুসারে মনে করা হয়, মহালয়ার দিন পিতৃপক্ষের অবসান হয়। শুরু হয় দেবীপক্ষের। এর পরের দিনটি হয় নবরাত্রি। বেশ কিছু অবাঙালিরা নবরাত্রি থেকে দেবীর ভিন্ন ভিন্ন নয়টি রূপের পুজো শুরু করে দেয়।
তাছাড়া হিন্দু পুরাণ মতে জীবিত কোন ব্যক্তির পূর্বের তিন পুরুষ পর্যন্ত পিতৃ লোকে বাস করেন। আর এই পিতৃলোক স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করে। যার শাসক হলেন মৃত্যুর দেবতা যমরাজ। তিনি সদ্যমৃত ব্যক্তির আত্মাকে পিতৃলোক এ নিয়ে যান।
বিশ্বাস করা হয়, এই মহালয়ার পুণ্য তিথিতে পিতৃলোক থেকে মৃত পিতৃ পুরুষদের আত্মা নেমে আসে মর্ত্যলোকে। তাই কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই দিনে অনেকেই নদীর ঘাটের মত পবিত্র স্থানে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় পিন্ডদান করে। তারপর স্নান করে শুদ্ধ হয়। যা তর্পণ নামে পরিচিত।
তবে এই তর্পণ শুধুমাত্র পিতৃ পুরুষদের জল দিতেই করা হয় না। পাশাপাশি তর্পণের মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয় দেবী দুর্গাকে। মর্ত্যে আসার আহ্বান। পুরান মতে এই দিনেই দেবীকে মহিষাসুর বধ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন স্বর্গের দেবতারা।