জলের ঘাটতি শরীরে সৃষ্টি করে নানা জটিলতা। শরীরে জলের ঘাটতি হলে অনেকেই বুঝতে পারেন না। মনে করেন যে, তেষ্টা পাচ্ছে না বলে শরীরে জলেরও প্রয়োজন নেই। আর এই ধারণাটি একদম ভুল। তাই চলুন জেনে নেয়া যাক কী কী লক্ষণে বুঝবেন আপনি জলশূন্যতায় ভুগছেন-
অসুখ ছাড়াই মাথাব্যথা ও সহজে ক্লান্তি
শরীর জলশূণ্যতায় ভুগলে এক প্রকারের মাথা যন্ত্রণা দেখা দেয়। মাইগ্রেন বা চোখের কোনো সমস্যা না থাকলেও হঠাৎই মাথা ধরলে বুঝবেন ‘ওয়াটার থেরাপি’ দরকার। তাছাড়া শরীরে অল্পতেই ক্লান্তি নেমে আসে। তাই যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন ফাঁকে ফাঁকে অবশ্যই জল পান করুন। এতে সুস্থতা বজায় থাকবে।
অল্পেই অসুস্থ
অনেককেই দেখা যায় যে সে খুব অল্পতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওষুধ নয়, ভরসা রাখুন জলেও। জল শরীরের টক্সিন ও ব্যাকটিরিয়াকে শরীর থেকে বের করে দেয়। কম জল পান করলে ক্সিন ও ব্যাকটিরিয়া ভালোভাবে বের হতে পারে না। ফলে শরীর দুর্বল হতে থাকে। আর এর ফলে খুব সহজেই আপনি আক্রান্ত হতে পারেন বাইরের ভাইরাসে।
প্রস্রাবের সময় জ্বালা
প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের অনেকটা টক্সিন বেরিয়ে যায়। তবে জল কম পান করলে শরীর তার পর্যাপ্ত টক্সিন বয়ে নিয়ে যাওয়ার উপকরণ পায় না। তাই প্রস্রাব কম তো হয়ই, সঙ্গে তাতে জ্বালাভাবও থাকে। জল বেশি করে পান করেও যদি এই সমস্যা না কমে, তাহলে অবশ্যই ইউরোলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
কোষ্ঠকাঠিন্য
জল কম পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে। কারণ শরীর একটা বিষয়ই বোঝে- নিজের জৈবিক কাজগুলো সারতে যেনতেনভাবে জলের জোগানটি ঠিক রাখা। তাই জল কম পান করলে কোলন বর্জ্য জমা করার সময় মল থেকেও জলটুকু শুষে নেয়। ফলে মল কঠিন হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।
খিদের আধিক্য
জল আর ক্ষুধার কেন্দ্রগুলো শরীরে খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। তাই ক্ষুধা পেয়েছে এমন মনে হলেও তা আসলে তেষ্টা পাওয়ার নির্দেশই হতে পারে। তাই কিছু খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আবার ক্ষুধা পেয়েছে বুঝলে আর বার বার এমন হতে থাকলে পর্যাপ্ত জল পান করুন।
ত্বকের সমস্যা
শরীরে টক্সিন জমলে স্বাভাবিকভাবে তা ত্বককে নিষ্প্রাণ করে তোলে। তাছাড়া ত্বকে দেখা দেয় নানা রকম অসুখ। ত্বক খসখসে হয়ে পড়া থেকে শুরু করে ব্রণের হানা সবই কম জল পানের কারণেও হতে পারে।